শেখ হাসিনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, "বুকের পাটা থাকলে এখনই দেশে আসেন, আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না।"
শনিবার (২৬সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুরে জেলা বিএনপি আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রসেসনে এ কথা বলেন তিনি। দেশজুড়ে 'পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তের' প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বিগত শাসনকালের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "আমরা অতীতে দেখেছি, তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এই টাকা সাধারণ মানুষের টাকা, আপনাদের টাকা। দেশের মানুষের রক্তঘামে অর্জিত অর্থ লুট করে তারা বিদেশে পাচার করেছে।"
সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইয়াসের খান চৌধুরী আরও বলেন, "যারা সন্ত্রাস করে, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের কোনো ঠাঁই নেই। অতীতে যারা অপকর্ম করেছে, তারা এখনো দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সচেতন জনগণ তা বরদাশত করবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে, ইনশাআল্লাহ।"
জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি লোকমান আহাম্মেদ খান লোটন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিউর রহমান শফি, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন এবং শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আব্দুল্লাহ আল মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তমালতলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।