জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা বৃহস্পতিবার রাতভর চলার পর শুক্রবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে। তবে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও বর্জনের অভিযোগের কারণে নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২১টি হলের মধ্যে ১১টির ফলাফল ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ফল আসতে আসতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও সারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ভোট শেষে সব ব্যালট বাক্স সিনেট হলে আনা হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণনা শুরু হয়।
নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হচ্ছে।
দিনভর নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছে ছাত্রদলসহ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সময় পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও করে ছাত্রদল।
৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। নির্বাচনে মোট সাতটি পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক প্যানেল অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, প্রগতিশীলদের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ–সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে। আংশিক প্যানেল দেয় স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন–ছাত্র ফ্রন্ট–সমর্থিত সংশপ্তক পর্ষদ। এছাড়া অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেন।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে লড়ছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২১টি হল সংসদের নির্বাচনও। প্রতিটি হলে ১৫টি করে মোট ৩১৫ পদে ভোট হচ্ছে। এতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৪৭ জন। তবে ছাত্রীদের ১০টি হলে ৫৯টি পদে কোনো প্রার্থী ছিল না, আর ৬৭টি পদে ছিল একক প্রার্থী। ফলে ভোট হয়েছে মাত্র ২৪টি পদে।
মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৮৪৩ জন, এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮।
ভোটের শুরু থেকেই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলে। দুপুরের পর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। পরে তাদের সঙ্গে সংশপ্তক পর্ষদ, প্রগতিশীলদের প্যানেল ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকগোষ্ঠীও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।