শান্তিগঞ্জে কুরবান আলী মাস্টারের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
মোঃ আবু সঈদ (স্টাফ রিপোর্টার)
📸 ফটো কার্ড
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম কুরবান আলী মাস্টারের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে মরহুমের নিজ বাড়িতে ও কনিষ্ঠ ছেলের কর্মস্হল আলহেরা জামেয়া ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মরহুম কুরবান আলী মাস্টার ১৯৩৯ সালের ১ ডিসেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম নাজিম উল্লা এবং মাতা জয়গুন বিবি। শৈশব ও কৈশোরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। ১৯৬৩ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন (সি-ইন-এড) সম্পন্ন করেন।
১৯৫৯ সালে জামলাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর তিনি ওই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দোয়ারা বাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শান্তিগঞ্জের উমেদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও ও নারকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ নিজ গ্রামের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। পাগলা জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা, রাউলী মাদ্রাসা ও মদনপুর মাদ্রাসায় স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষকতা করেন। ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সরকারিকরণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। অবসর জীবনে তিনি ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ফতেপুর জামে মসজিদের উন্নয়নেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তিনি আমৃত্যু ওই মসজিদের মোতওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সম্পদের মোহ ত্যাগ করে মানুষের সেবা এবং সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর সন্তানরা বর্তমানে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আইন পেশা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর পাঁচ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে মোছা. রহিমা আক্তার ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। অন্য চার মেয়ে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তিন ছেলের মধ্যে একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী, দলিল লেখক ও শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাজসেবামূলক কাজ করছেন। অপর একজন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং অন্যজন হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত।
মরহুমের সন্তানরা হলেন—মোছা. রহিমা আক্তার, মোছা. হালিমা আক্তার, মো. আবু সঈদ, মো. আবুল কাশেম, মোছা. শামিমা আক্তার, মোছা. মহিমা আক্তার, মোছা. সালমা আক্তার ও হাফেজ মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক।
মরহুমের স্মৃতি ও আদর্শকে অম্লান রাখতে তাঁর উত্তরসূরিরা ‘মরহুম কুরবান আলী মাস্টার শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি পারিবারিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।
মরহুম কুরবান আলী মাস্টারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের প্রার্থনা করা হয়। আমিন।
শান্তিগঞ্জে কুরবান আলী মাস্টারের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
মোঃ আবু সঈদ (স্টাফ রিপোর্টার)
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৯
মরহুম কুরবান আলী
অডিও সংবাদ
শুনতে প্লে করুন
মরহুম কুরবান আলী ছবি:
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম কুরবান আলী মাস্টারের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে মরহুমের নিজ বাড়িতে ও কনিষ্ঠ ছেলের কর্মস্হল আলহেরা জামেয়া ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মরহুম কুরবান আলী মাস্টার ১৯৩৯ সালের ১ ডিসেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম নাজিম উল্লা এবং মাতা জয়গুন বিবি। শৈশব ও কৈশোরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। ১৯৬৩ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন (সি-ইন-এড) সম্পন্ন করেন।
১৯৫৯ সালে জামলাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর তিনি ওই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দোয়ারা বাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শান্তিগঞ্জের উমেদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও ও নারকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ নিজ গ্রামের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। পাগলা জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা, রাউলী মাদ্রাসা ও মদনপুর মাদ্রাসায় স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষকতা করেন। ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সরকারিকরণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। অবসর জীবনে তিনি ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জয়কলস উজানীগাঁও রশিদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ফতেপুর জামে মসজিদের উন্নয়নেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তিনি আমৃত্যু ওই মসজিদের মোতওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সম্পদের মোহ ত্যাগ করে মানুষের সেবা এবং সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর সন্তানরা বর্তমানে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আইন পেশা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর পাঁচ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে মোছা. রহিমা আক্তার ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। অন্য চার মেয়ে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তিন ছেলের মধ্যে একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবী, দলিল লেখক ও শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাজসেবামূলক কাজ করছেন। অপর একজন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং অন্যজন হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত।
মরহুমের সন্তানরা হলেন—মোছা. রহিমা আক্তার, মোছা. হালিমা আক্তার, মো. আবু সঈদ, মো. আবুল কাশেম, মোছা. শামিমা আক্তার, মোছা. মহিমা আক্তার, মোছা. সালমা আক্তার ও হাফেজ মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক।
মরহুমের স্মৃতি ও আদর্শকে অম্লান রাখতে তাঁর উত্তরসূরিরা ‘মরহুম কুরবান আলী মাস্টার শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি পারিবারিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।
মরহুম কুরবান আলী মাস্টারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের প্রার্থনা করা হয়। আমিন।
বিষয়:
১
ফটিকছড়ি সরকারী কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের কমিটি ঘোষনা
২
ইবিতে ফিউচার হারভেস্ট সামিট অনুষ্ঠিত
৩
শান্তিগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উপজেলা কমিটি গঠন, সভাপতি জিয়াউর-সম্পাদক রেদুয়ান
৪
বুকের পাটা থাকলে এখনই দেশে আসেন, ডিসেম্বরের জন্য অপেক্ষা করব না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান
৫
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন
৬
কাপাসিয়ায় সীরাতুন্নবী (সা:) উপলক্ষ্যে ছাত্রী সংস্থার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬০০ শতাধিক ছাত্রী
৭
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ: মাহ্দী আমিন
৮
কুবির নজরুল হলে ড্রেন অব্যবস্থাপনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
৯
শান্তিগঞ্জে মসজিদে হামলায় যুবক আহত, সিলেটে চিকিৎসাধীন
১০
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে জুলাইযোদ্ধাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
১
ট্রেনের ১৭ হাজার টিকিটের জন্য ২ কোটি ৭৬ লাখ বার চেষ্টা
২
মিরাজ-সৌম্যকে দলে টানতে চায় রংপুর
৩
দিল্লিতে ভারী বৃষ্টিতে বিমান চলাচল বিঘ্ন, ব্যাপক দুর্ভোগ
৪
আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার
৫
গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৯ ফিলিস্তিনি
৬
বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ
৭
মাদককারবারিদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ওসির
৮
২ বহিরাগতের নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিস!
৯
নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই: আলী রীয়াজ
১০